Sunday, December 9, 2012

অক্টোবরের পালাবদল




মৌসুম বদলের সময়টা আমার খুব ভাল লাগে, বিশেষ করে যখন শীত আসি আসি করে। এক একটি ঋতু তার সবকিছু উজার করে দিয়ে বিদায় নেয়, আরেকটি ঋতু আসে তার উপহারের ডালি নিয়ে, প্রকৃতির রঙ বদলায়, বদলায় মানুষের মনের রঙও। বড় হয়েছি আবুধাবীতে, উত্তপ্ত উষর মরু আবহাওয়ার মাঝে। তারপর ছিলাম মাদ্রাজ যেথা চিরবসন্ত বিরাজ করত সারাবছর, অবশ্য চিরগ্রীষ্ম বললে বেশি সঠিক হয়। তাই বৃষ্টি আর শীতের প্রতি ছিল এক অবর্ণনীয় আকর্ষন। ক্যানাডায় যখন শীত আসি আসি করে প্রকৃতি নানান রঙে সেজে ওঠে। অল্প ক’টি দিনের জন্য গাছে গাছে পাতাগুলো লাল, কমলা, হলুদ হয়ে সোনাঝরা রঙে রাঙ্গিয়ে দেয় প্রতিটি ডালপালা। তারপর একদিন হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া জানান দেয় শীতের আগমন, সোনাঝরা পাতাগুলো ঝরে গিয়ে পড়ে থাকে পথেপ্রান্তরে। তারপর একদিন সমস্ত প্রকৃতিকে শ্বেতশুভ্র বসনে আবৃত করে দেয় পুতঃপবিত্র ধবল তুষার। আবার একদিন হঠাৎ মাটি ফুঁড়ে তুষার ভেদ করে বেরিয়ে আসে ডালপালা পত্রপল্লববিহীন একটি কুঁড়ি, বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে, চোখের নিমিষে কোথা হতে যেন কচি হরিৎ পত্রপল্লবে সেজে ওঠে প্রকৃতি। তারপর একদিন বহু আকাঙ্খিত বৃষ্টি প্রকৃতিকে পূর্ণতা দান করে, সজীব করে তোলে, প্রতিটি রংকে করে তোলে আরো আকর্ষনীয়, আরো মোহনীয়। কোথায় যেন এর সাথে মানুষের জীবনের মিল খুঁজে পাই। অল্প ক’দিনের যৌবন আমাদের শরীর মন মননে ফাগুনের রঙ জ্বালিয়ে দেয়, তারপরই নেমে আসে বার্ধক্যের নিস্তব্ধতা, একদিন নীরবে চলে যাব এই পৃথিবীর সমস্ত মোহমায়া ছেড়ে, তারপর যদি ওপাড়ে ফুল হয়ে ফুটতে পারি তাহলেই বর্ষিত হবে আমার প্রভুর করুণাধারা যা আদ্যোপান্ত পুরোটাকেই পূর্ণতা দান করবে, নতুবা বাঁধভাঙ্গা বন্যায় ভেসে যাওয়া খড়কুটোর মত অর্থহীন হয়ে যাবে সব, কিছুই অবশিষ্ট রইবেনা।

প্রকৃতির এই বৈচিত্রকে আরো রঙিন করে তোলার উদ্দেশ্যেই বুঝি সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি প্রাণীকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন যেন তারা একে অপরের মাঝে প্রশান্তি খুঁজে পায়, একে অপরকে ভারসাম্য বজায় রেখে পূর্ণতাপ্রাপ্ত হতে সহযোগিতা করতে পারে। প্রত্যেক স্বামীস্ত্রীর মাঝেই দেখা যায় একজন গরম পছন্দ করে, আরেকজন শীত। বলাই বাহুল্য যেহেতু আমার পছন্দ শীত এবং বর্ষা, হাফিজ সাহেবের দু’টোই খুব অপছন্দ। গত বছর প্রথম তুষারপাতের পরদিন আমরা এক জায়গায় যাচ্ছি, শীতের প্রথম ধাক্কায় কুপোকাত হাফিজ সাহেব বলছেন, ‘কবে যে গ্রীষ্ম আসবে!’
বললাম, ‘মাত্র তো শীত এলো, আমাদের কত খুশি লাগছে, আপনি কেন গ্রীষ্মের জন্য অস্থির হয়ে যাচ্ছেন?’
উনি বললেন, ‘গরম তবু সহ্য করা যায়, শীত একেবারেই সহ্য করা যায়না’।
বললাম, ‘কথা সত্য নয়। গায়ে কাপড় জড়িয়ে কিংবা আগুন জ্বালিয়ে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, কিন্তু গরমের থেকে রক্ষা পাবার জন্য কি করা যায়? যদি বাইরে বাতাস না থাকে তাহলে পাখার বাতাসেও শরীর জুরায় না, গরম পানি খেয়েও বা কি তৃষ্ণা মেটে? সবচেয়ে বড় কথা আল্লাহ নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন মানুষ শীত সহ্য করতে পারে কিন্তু গরম সহ্য করতে পারেনা, কারণ তিনি দোজখের শাস্তি বরফ দিয়ে নয় আগুন দিয়ে তৈরি করেছেন, ফুটন্ত গরম পানি পান করতে দেবেন বলেছেন যা দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ হয়না’।
‘হুমম, যুক্তি আছে বটে!’, স্বীকার করতে বাধ্য হলেন হাফিজ সাহেব।

অক্টোবর মাসটা ঘুরেফিরে আমার জীবনে বিদায়ী মাস হিসেবেই আসে। দশটি বছর আবুধাবীকে বাড়ী জেনে শেষে বাড়ী ফিরেছিলাম এক অক্টোবরে। সেই শোবার ঘরের জানালা দিয়ে দেখা সমুদ্রের সুনীল ফেনিল জলরাশি, জানালার পাশে মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসা আজানের শব্দ, সকাল সন্ধ্যা কার্টুন দেখা, পার্কে বসে শাওয়ার্মা খাওয়ার স্মৃতি পেছনে ফেলে পাড়ি জমালাম বাংলাদেশে।

কুড়িটি বছর বাবামার বাড়ীকে নিজের ঘর জেনে আরেকজনের ঘর করতে ঘর ছেড়েছিলাম তাও এক অক্টোবরে। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দু’টো কাজের একটি করেছিলাম সেদিন। আমার বিয়েতে হলুদ, লাইটিং, গানবাজনা, যৌতুক আদানপ্রদান কিছুই হয়নি। তবে একমাত্র অনুষ্ঠানটিতে বাবা, মা, দুই ভাই, মামা, ভাইয়া, কাজের লোকজন এমনকি হবু শাশুড়ি আম্মা পর্যন্ত আমার দেয়া কাপড় পরে এসেছিলেন। তিল তিল করে বেতনের টাকা জমিয়ে জিনিসগুলো নিজে পছন্দ করে কিনেছিলাম। অন্য কাজটি করেছিলাম এর কয়েক বছর আগে। বাবামার বিয়ে হয়েছিল একাত্তরের পনেরোই ডিসেম্বর। চট্টগ্রাম শহরে তখন হুলস্থুল বোমা পড়ছে, সবাই ভাবছিল যুদ্ধ কবে না কবে শেষ হয়, মাত্র কয়েকজন মিলে বিয়ে পড়ানো হয় বাড়ির সিঁড়িঘরের নীচে, অনেকটা বোম শেল্টারের বিকল্পের মত। মা ছিল গ্রামের মেয়ে, শাড়ি গহনা যা হোক না হোক কিন্তু টিকলী দেয়া হয়নি তাতে খুব মন খারাপ হয়। ওদিকে বিয়ের পর যুদ্ধের শহর নিরাপদ নয় ভেবে মাকে বাড়ী রেখে আসতে বাবা যাচ্ছে শ্বশুরবাড়ী, পকেটে মাত্র দু’খানা টাকা সম্বল। কর্ণফুলি নদী পাড় হবার আগে এক লোক নিজেকে রাজাকার পরিচয় দিয়ে টাকা দু’টো ছিনিয়ে নিয়ে যায়, নদী পাড় হয়ে বাবা শোনে দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে! তখন ঐ দু’টাকার জন্য আফসোসের সীমা নেই। শ্বশুরবাড়ী গিয়ে দেখে সাধ্যমত আয়োজন করা হয়েছে কিন্তু যুদ্ধাবস্থার মাঝে জামাইকে ভাল ঘড়ি দেয়া সম্ভব হয়নি। বাবামার পঁচিশতম বিবাহ বার্ষিকী বিয়ের মত করেই আয়োজন করা হয়। দেশ বিদেশ থেকে সমস্ত আত্মীয় পরিজন বন্ধুবান্ধব একত্রিত হয় এই অনুষ্ঠানের জন্য। তার ছ’মাস আগে থেকে সিজিএসে কাজ করছিলাম, টাকা জমাচ্ছিলাম একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে। অবশেষে সেবার বাবাকে একটি ভাল ঘড়ি আর ছোটভাই আহমদের পরামর্শে মাকে টিকলীর পরিবর্তে একজোড়া ভাল কানের দুল উপহার দেই আমরা তিন ভাইবোন।

দশ বছর শ্বশুরবাড়ীকে বাড়ী জেনে অবশেষে সেই বাড়ীও ছেড়ে আসি আরেক অক্টোবরের শেষে। আমি যখন সারাদিন কাজ শেষে ক্লান্ত হয়ে ফিরতাম, সাথে বাচ্চা আর পাঁচ ছ’টা ব্যাগ, আব্বা মসজিদের পথে আধরাস্তা থেকে ফিরে এসে রাদিয়াকে কোলে তুলে নিতেন, আমাদের ওপরতলায় পৌঁছে দিয়ে আবার মসজিদে যেতেন। আম্মা মাছ বা মাংসের যে টুকরোটা আমি পছন্দ করি তা আমার জন্য তুলে রেখে শুতে যেতেন। আমার কোন বোন নেই, তাই এখানে এসে পাঁচ পাঁচটা বোন পেয়ে হৃদয়ের সমস্তটুকু ওদের উজার করে দিয়ে ভালবেসেছিলাম। বিয়ের পর আব্বার চারতলা বিল্ডিংয়ের মাথার ওপর দু’খানা রুম আর এক বাথরুমের ঘর করে নিয়েছিলাম হাফিজ সাহেব আর আমি,আমাদের কোন চুলো ছিলোনা, ছিলোনা একটা চামচও, কিন্তু এর প্রতিটি ইটের সাথে মিশে আছে আমাদের পরিশ্রম আর আব্বার মায়া। সমস্ত মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমাতে হোল বিদেশ বিভুঁইয়ে, জীবিকার তাগিদে।

আরেকটি বাড়ী ছিল আমার। ঠিক আট বছর ধরে এই বাড়ীতে হাজার হাজার মানুষের সাথে পরিচয় আর ওঠাবসা হয়েছে, স্মৃতিতে গেঁথে আছে কিছু নাম কিছু চেহারা কিছু বেদনা আর অনেক অনেক ভালবাসা, এই সেই বাড়ী যেখানে যতটুকু দিয়েছি তার চেয়েও অনেকগুন বেশি পেয়েছি। এটা ছিল আমার কর্মস্থল, কিন্তু মানুষগুলো কেবল সহকর্মী ছিলোনা, ছিল সহমর্মী এবং বিপদের বন্ধু। যখন শরীর খারাপ হয়েছে তখন টাকাপয়সা থেকে সহযোগিতা, যখন মন খারাপ হত তখন সমবেদনা থেকে সান্তনা, ঈদের বাজার করা থেকে পিয়নের বিয়ে খেতে গ্রামযাত্রার আনন্দ সবই পেয়েছি এখানে। সেই আশ্রয়স্থল ছেড়ে চলে আসি আরেক অক্টোবরে পাঁচখানা ফেয়ারয়েল নিয়ে। ইউনিভার্সিটিতে কোন শিক্ষকের বিদায় উপলক্ষ্যে ফেয়ারওয়েলের তেমন একটা চল নেই। সানজিদা যখন চলে গেল তখন ইফেতেখারউদ্দীন ব্যাক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষকদের সবাইকে একত্রিত করে একটি রেস্টুরেন্টে বিদা‍য় সম্বর্ধনার আয়োজন করেন। আমার মহিলা সহকর্মীবৃন্দ বিদায় দেন তিনবার, যেন যেতে নাহি দিব, হায় তবু যেতে দিতে হয় তবু চলে যায়! আমরা বছরের পর বছর একসাথে কাজ করেছি, স্টাডি ট্যুরে গেছি, ট্রেনিং ক্যাম্পে রাতদিন একত্রে কাটিয়েছি, একজনের বিয়ে প্রমোশন কিংবা নতুন বাড়ী উপলক্ষ্যে দলবেঁধে আনন্দ করেছি, একের অসুস্থতা বা পরিবারে কারো মৃত্যুতে সদলবলে ছুটে গেছি সাহস জোগাতে, একের ভুলে সবাই হেসেছি আবার সবাই মিলেই ঠিক কাজটি করতে শিখেছি। সেই সাথীদের কি বিদায় জানানো যায়? তাই যেদিন চলে আসব তার আগের দিন সালমা আপা এসে কাপড় ভাঁজ করে বাক্সে ভরে দিয়েছেন, ফাহমিদা এসে বাচ্চাদের কাপড় আর চাদর পৌঁছে দিয়ে গিয়েছে। ডিপার্টমেন্টের সকল শিক্ষক মিলে ডিপার্টমেন্ট অফিসে বিদায় দেন একবার, কেউ কেউ বাসায় দাওয়াত করেন আবার কেউ কেউ বাসায় দেখা করতে আসেন চলে আসার অব্যবহিত পূর্বে। তবে সবচেয়ে স্পর্শ কাতর বিদায়ী অনুষ্ঠান ছিল ছাত্রীদের পক্ষ থেকে যেহেতু এটা ছিল আশাতীত। এমনটা সম্ভবত সেবারই প্রথম। আট বছরে এদের কাউকে অনার্সে পড়িয়েছি, কাউকে মাস্টার্সে পড়িয়েছি, কাউকে আদ্যোপান্ত পড়িয়েছি, কাউকে কম্পিউটার সাইন্স বা এমবিএর কোন কোর্স পড়িয়েছি, কাউকে অন্য বিষয়ে জ্ঞান দান করেছি, কাউকে কিছুই দিতে পারিনি, কারো সাথে স্টাডি ট্যুরে গছি, ওদের সম্বর্ধনা এবং বিদায় দিয়েছি, কারো বিয়ে খেতে গেছি, কাউকে হাসপাতালে দেখতে গেছি, কাউকে কবর দিতে দেখেছি, কাউকে উপদেশ দিয়েছি, কাউকে সান্তনা দিয়েছি, কাউকে বকা দিয়েছি, কেউ কেউ ছাত্রী থেকে সহকর্মীতে পরিণত হয়েছে- এই বিশাল মেলার প্রাক্তন, বর্তমান, হবু ছাত্রীদের যারাই খবর পেয়েছে ছুটে এসেছে। সবটার পেছনে প্রচ্ছন্নভাবে হাত ছিল সালমা আপার যার সাথে আট বছর ধরে একই রুমে সংসার পেতেছিলাম। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানে আমাদের বিগত দিনগুলোর খন্ডচিত্র তুলে ধরে এক স্মৃতিবিধুর পরিবেশ সৃষ্টি করেন তিনি। সহকর্মী বান্ধবীরা এবং ছাত্রীরা স্মৃতিচারন করতে গিয়ে বাঁধভাঙ্গা অশ্রু দিয়ে আমার হৃদয়কেও প্লাবিত করে। কিশোরী ছাত্রীরা মনের মাধুরী মিশিয়ে কত কি যে উপহার দেয়! প্রত্যেকটিই অসাধারন। তবে আমাকে সবচেয়ে স্পর্শ করে দু’টি উপহার। একটি সেমেস্টারের ছাত্রীরা আমাকে একটি তালাচাবিযুক্ত ডায়রী উপহার দেয়, এর পাতায় পাতায় তারা ময়ুরের পেখমের মত মেলে ধরেছে তাদের ধ্যানধারণা চিন্তাভাবনা অনুভূতি, আমার মনে হয় যেন ডায়রী নয় বরং ওদের হৃদয়ের চাবিটাই ওরা সমর্পণ করেছে আমার হাতে! অনুষ্ঠানের শেষে কয়েকজন ছাত্রী মুখোমুখি বসে আমার সাথে গল্প করছিল। হঠাৎ সালেহার কি মনে হোল, সে নিজের ব্রুচটা খুলে আমার স্কার্ফে লাগিয়ে দিয়ে একটা সন্তুষ্টির হাসি হেসে বলল, ‘ওটা ওখানেই বেশি ভাল মানাচ্ছে!’

আজ আরেক অক্টোবরে আমার গত চারবছরের নিবাস ছেড়ে চলে এলাম অন্যত্র। ক্যানাডায় আসার পর ওটাই ছিল আমার home away from home. এ’বাড়ীর প্রতিটি কোণে আমার সন্তানদের বিচরণের স্মৃতি, বন্ধুদের আসাযাওয়া, দাওয়াত খাওয়া, কত হাসি আনন্দ আবার দুঃখকষ্টের ভাগাভাগির কাহিনী! ঈদের আগের দিন চাবি পেলাম নতুন বাড়ীর, গত ক’দিন এ’বাড়ী ও’বাড়ী দৌড়াদোড়ি করতে করতে, জিনিসপত্র বাঁধতে আর খুলতে, গুছাতে, পরিষ্কার করতে আর সারা শরীরের প্রচণ্ড ব্যাথায় টেরই পাইনি এই বাড়ী এখন আর আমার নেই। শেষ যেদিন চাবি দিয়ে চলে এলাম তখন অনুভূতিটা ধাঁ করে ধাক্কা দিল মনে যে এ’বাড়ীর জানালা দিয়ে আমার আর আকাশ দেখা হবেনা, ট্রেনের শব্দ কিংবা পুলিশের সাইরেন শোনা হবেনা, ছেলেমেয়ে স্কুলে যাবার সময় চেয়ে থাকা হবেনা।

এভাবেই হয়ত কোন এক অক্টোবরে আমার এই অস্থায়ী জীবনের প্রথম এবং শেষ আশ্রয়স্থল, এই পৃথিবীটার সাথেও আড়ি হয়ে যাবে। আজ এক প্রাক্তন সহকর্মী ভাই যিনি ইউ কেতে পিএইচডি করছেন, বার্তা দিয়ে জানতে চাইলেন ক্যানাডায় সেটল হব কিনা। এক মূহূর্তও না ভেবে জানালাম, ‘একবারে কবরে গিয়েই সেটল হব ভাই’। তবে সেটাও অস্থায়ী। বাকীটুকু আমার প্রভুর করুণার ওপর নির্ভরশীল।

No comments:

Post a Comment